শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ব্যুরো::
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মনিরা বেগম (৪৫) নামের এক বিধবা নারী নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল ১০টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন খুলনা-যশোর মহাসড়কের মীর বাড়ি এলাকায় সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিরা বেগম শিরোমনি পূর্বপাড়া এলাকার খান নোয়াব আলীর মেয়ে। পুলিশ বাসটি আটক করলেও গাড়ীর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
এদিকে, গত দু’ সপ্তাহ ব্যবধানে একই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনটি প্রাণহানীর ঘটনায় স্থানীয়রা স্প্রিড ব্রেকার এবং নিহতের ক্ষতিপুরণের দাবীতে সড়কে গাছের গুড়ি এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
স্থানীয়রা জানান, মনিরা বেগম গরুর ঘাস নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঢাকা থেকে খুলনাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত মনিরা বেগমের বড় ভাবি জাহানারা বেগম বলেন, মনিরার চারটি শিশু সন্তান রয়েছে। মনিরার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের বাড়িতে থাকতো। গরু দেখাশোনা করতো। সকালে নাস্তা করে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিল। ঘাস নিয়ে আসার সময় সোহাগ পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় সোহাগ পরিবহনের একটি বাস মনিরা বেগমকে ধাক্কা দিলে তিনি মারা যান। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চালক আফিলগেটস্থ এস.কে ফিলিং ষ্টেশনে রেখে পালিয়ে গেছে। বাসটিকে জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত জনতা গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় তারা খুলনা থেকে যশোরের দিকে যাওয়া সোহাগ পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৭০৫) আটক করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, মীরবাড়ি এলাকায় গত ৯ জুলাই সড়ক দর্ঘটনায় মটরসাইকেল চালক মোঃ মাসুদ রানা (৩০) এবং ১৬ জুলাই খুলনার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বেসামরিক (এমইএস) বিদ্যুতের লাইনম্যান বিলিয়ান হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়।